জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ মঙ্গলবার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয়, বরং ৫ শতাংশ হবে। বিশেষভাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে কোনো উৎসে কর লাগবে না। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
গত জানুয়ারি মাস থেকে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা অভিযোগ জানাচ্ছেন যে, পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে মুনাফার ওপরও ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও গ্রাহক অভিযোগের মাধ্যমে এনবিআরের নজরে আসে। আজকের চিঠিতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এনবিআরের ব্যাখ্যা:
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপনের নিয়ম অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে ৫ শতাংশ। তবে শুধুমাত্র পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থাকলে এবং মোট বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে থাকলে উৎসে কর হবে শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ, কোনো কর গ্রাহকের ওপর বসবে না।
আয়কর আইন ২০২৩–এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মোট বিনিয়োগ যদি সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করে, তবে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ।
সঞ্চয়পত্রের ধরন:
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে—
- পরিবার সঞ্চয়পত্র
- পেনশনার সঞ্চয়পত্র
- পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
- তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সঞ্চয়পত্রগুলোতে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান উভয়ই বিনিয়োগ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর হবে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

