সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ট্রেজারি বন্ডকে জামানত হিসেবে রেখে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন। বন্ডের অভিহিত মূল্যের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে বুধবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লিয়েনকৃত সরকারি বন্ডকে এখন থেকে ব্যাংকের জন্য যোগ্য জামানত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, অনেক ব্যাংক ইতোমধ্যে এ ধরনের বিনিয়োগের বিপরীতে ঋণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে এই সুবিধা চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সেই বন্ডকে লিয়েন হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। অর্থাৎ ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বন্ডটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর জন্য ঝুঁকি কমবে এবং একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও সহজে তার বিনিয়োগের বিপরীতে অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ডের অভিহিত মূল্যের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে। তবে সুদসহ মোট ঋণের স্থিতি কোনো অবস্থাতেই বন্ডের অভিহিত মূল্যের বেশি হতে পারবে না। একই সঙ্গে ঋণের মেয়াদও বন্ডের মেয়াদের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে দেওয়া ঋণ ওভারড্রাফট অথবা মেয়াদি ঋণ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। তবে বন্ড কেনার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব অর্থেই ট্রেজারি বন্ড কিনতে হবে, এরপর সেই বন্ডকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া যাবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের বন্ডবাজারকে আরও সক্রিয় করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি নতুন আর্থিক সুবিধা তৈরি করবে, কারণ তারা বন্ডে বিনিয়োগ করেও প্রয়োজন অনুযায়ী তার বিপরীতে নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন।
একসময় সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ সীমিত ছিল মূলত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা কোম্পানির মধ্যে। তবে কর-সুবিধা, তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ এবং ভালো মুনাফার কারণে বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এই ঋণ সুবিধা চালু হওয়ার ফলে বন্ডে বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের তারল্য সংকটও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে ঋণ সুবিধা চালু হওয়ায় দেশের আর্থিক বাজারে নতুন গতি আসতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়নের সুযোগ পাবেন, যা সামগ্রিকভাবে পুঁজিবাজার ও বন্ডবাজারের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

