দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এ নিয়ে টানা ছয় মাস ধরে দেশে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে প্রায় ৩৭৫ কোটি, এপ্রিলে ৩১৩ কোটি এবং মে মাসে ৩৪২ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল ফিতর ও আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি ডলারের উচ্চ বিনিময় হারও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ জুগিয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশের বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।
ব্যাংকভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রায় ৫৯ কোটি ডলার দেশে এসেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর আইএমএফের BPM-6 পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।

