দেশের দ্রুত বর্ধনশীল মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতে নতুন করে প্রবেশ করতে যাচ্ছে Prime Bank PLC। ‘প্রাইম লেনদেন’ নামে নিজেদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর জন্য ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান Prime Bank Fintech Limited এই সেবাটি পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ব্র্যান্ডে এমএফএস খাতে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে আগে থেকেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে bKash, Rocket এবং Nagad।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই অনুমোদন দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ তৈরি করেছে। প্রাইম ব্যাংক ফিনটেক লিমিটেড প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর বাইরে গিয়ে একটি সহযোগিতামূলক বাজার পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে এমএফএস একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘প্রাইম লেনদেন’ চালু হলে গ্রাহকদের জন্য বিকল্প সেবা বাড়বে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা আরও গতিশীল হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সহজ ব্যবহারযোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে প্রাইম ব্যাংক ফিনটেক নিজেদের গ্রাহকদের ‘ডিজিটাল অভিভাবক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো—গ্রাহকদের নিরাপদ, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য লেনদেনের অভিজ্ঞতা প্রদান করা, যাতে সব শ্রেণির মানুষ ক্যাশলেস অর্থনীতিতে স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ নিতে পারেন।
এছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
প্রাইম ব্যাংক ফিনটেক লিমিটেড জানিয়েছে, সেবাটি চালুর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রযুক্তি অংশীদার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে। গ্রাহকসেবা, নিয়মানুবর্তিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে যেতে চায় তারা।
বর্তমানে দেশে ১৩টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদান করছে। এই খাতে টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ, বিল পরিশোধ এবং পণ্য কেনাকাটার পাশাপাশি এখন আমানত সংগ্রহ ও ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের মতো সেবাও যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সেবা চালুর ফলে উদ্ভাবনী ফিচার, গ্রাহকবান্ধব মূল্যনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

