ফুটবল বিশ্বকাপ এখন শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম বড় বাণিজ্যিক আয়োজন। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণ ও ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন এবং পর্যটন খাতে শত শত কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সম্প্রচারস্বত্ব, টিকিট বিক্রি, স্পনসরশিপ, লাইসেন্সিং এবং আতিথেয়তা সেবা থেকে সংস্থাটির আয় আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর বিজ্ঞাপন আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অ্যাডিডাস, নাইকি, কোকা-কোলাসহ বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের বিপণন প্রচারণা চালিয়েছে, যা তাদের বিক্রি ও ব্র্যান্ড উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে এই বাণিজ্যিক সাফল্যের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে দর্শকদের ওপর। উচ্চমূল্যের টিকিট, বিমানভাড়া, হোটেল এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যয়ের কারণে অনেক সমর্থককে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যাচ সংখ্যা বাড়ায় বৈশ্বিক ক্রীড়া বাজির বাজারেও লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক বিশ্বকাপ এখন শুধু ফুটবলের লড়াই নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিপণন ও বিনিয়োগেরও অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

