বেসরকারি খাতের অন্যতম শীর্ষ ব্যাংক ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. এহতেশামুল হক খান। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বিদায়ী এমডি ও সিইও আবুল কাশেম মো. শিরিনের নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। টানা আট বছর তিনি ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই ছুটির দিনেই নতুন এমডি হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেন মো. এহতেশামুল হক খান।
অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে আস্থা
ব্যাংকটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এমডি ও সিইও হিসেবে নিয়োগের আগে মো. এহতেশামুল হক খান প্রায় ছয় বছর ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও প্রধান ব্যবসায় কর্মকর্তা (চিফ বিজনেস অফিসার—সিবিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ব্যাংকটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (চিফ অপারেটিং অফিসার—সিওও) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়া, ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি ব্যাংকটির স্থানীয় কার্যালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা ও ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে গভীর ধারণার কারণে তাঁর এই নিয়োগকে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিন দশকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা
মো. এহতেশামুল হক খান ২০০৩ সালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে যোগ দেন। গত দুই দশকের বেশি সময়ে তিনি ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এর আগে ১৯৯৫ সালে তিনি বেসিক ব্যাংকে সহকারী ব্যবস্থাপক (অন প্রবেশন) হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। সব মিলিয়ে তাঁর ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা ৩০ বছরেরও বেশি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
নতুন এমডি ও সিইও মো. এহতেশামুল হক খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক (বিএসসি) ও স্নাতকোত্তর (এমএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব, ব্যবসা পরিচালনায় অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় দক্ষতার কারণে তাঁর নেতৃত্বে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক আগামীর প্রতিযোগিতামূলক আর্থিক খাতে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

