Wednesday, September 23

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধানের আওতায় থাকা ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে ও বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ দেশে এবং প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে রয়েছে। তবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কত পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

অনুসন্ধানের আওতায় একাধিক অভিযোগ

বিএফআইইউ জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ পাচার, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকিসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়।

এই অনুসন্ধানের আওতায় থাকা শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ এবং আরামিট গ্রুপ।

বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারে কার্যক্রম অব্যাহত

অনুষ্ঠানে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, বিদেশে পাচার হয়েছে বলে সন্দেহ করা সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, “দেশ থেকে যে সম্পদ বাইরে চলে গেছে, তা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমরা আশাবাদী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি জানাতে পারব।”

তদন্তে একাধিক সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম

অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে কাজ করছে। পুরো কার্যক্রমে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে বিএফআইইউ।

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, গুরুত্ব পায় সন্দেহজনক লেনদেন

অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক জানতে চান, সরকার পরিবর্তনের পর প্রায়ই সাবেক ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়—এ ক্ষেত্রে তদন্তের মানদণ্ড কী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অনুসন্ধান হবে কি না।

জবাবে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, সংস্থাটি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, “সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে-ই হোন না কেন, পরিচয়ের চেয়ে লেনদেনের প্রকৃতি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধেই এমন তথ্য পাওয়া গেলে একই নীতিতে তদন্ত পরিচালিত হবে।”

বিএফআইইউর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান এবং বিদেশে থাকা সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version