Wednesday, September 23

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও শিল্প অবকাঠামোর উন্নয়নকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন (এমআইইজেড) পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এই সফরকে দেশের শিল্পখাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার আয়োজিত এই পরিদর্শনে ছয়টি দেশের কূটনীতিক অংশ নেন। তাদের স্বাগত জানান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক তায়েফ বিন ইউসুফ। পরিদর্শনকালে কূটনীতিকরা অর্থনৈতিক অঞ্চলের আধুনিক অবকাঠামো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং দ্রুত সেবা প্রদানের সক্ষমতা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ব্রুনেই দারুসসালাম, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সফর শেষে তারা বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এমজিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কূটনীতিকরা বিশেষভাবে “ওয়ান-স্টপ সার্ভিস” ব্যবস্থার প্রশংসা করেন, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা স্থাপন প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করে তোলে। তারা নিজেদের দেশে ফিরে এই অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ সময় মোস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অবকাঠামো ও সহায়তা আমরা নিশ্চিত করেছি।”

তিনি আরও জানান, এমজিআই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও সময়োপযোগী সেবা কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা বাংলাদেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বর্তমানে মেঘনা গ্রুপের অধীনে তিনটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল—মেঘনা ইকোনমিক জোন, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন এবং কুমিল্লা ইকোনমিক জোন—বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এসব অঞ্চলে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, ভারত, চীন, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন কোম্পানি বিনিয়োগ করে কারখানা স্থাপন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কূটনৈতিক পরিদর্শন ও সরাসরি অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে।

বাংলাদেশ দ্রুত শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের মতো প্রকল্পগুলো ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version