Wednesday, September 23

বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করতে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে Asian Development Bank (এডিবি)। সংস্থাটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কার ও সম্প্রসারণে সহায়তার লক্ষ্যে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে, যা সামগ্রিকভাবে দারিদ্র্য হ্রাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সেকেন্ড স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর আওতায় অনুমোদিত এই অর্থায়ন মূলত ‘সাব-প্রোগ্রাম ২’ বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হবে। কর্মসূচিটির লক্ষ্য হচ্ছে ঝুঁকি, বৈষম্য ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, অভিযোজনক্ষম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপ দিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে নারীসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং অংশীদারত্বমূলক (কন্ট্রিবিউটরি) সুরক্ষা স্কিম চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কন্ট্রিবিউটরি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, যা ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে আরও অন্তত আড়াই লাখ সুবিধাবঞ্চিত নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সামাজিক সুরক্ষায় লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কর্মসংস্থানভিত্তিক (ওয়ার্কফেয়ার) কর্মসূচির মাধ্যমে অভিযোজনমূলক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে Bangladesh Bank–এর লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সেবার প্রাপ্যতা অন্তত ১৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে আরও গতিশীল করবে।

এডিবির মতে, এই সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো ক্ষুদ্র পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করবে। দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সামষ্টিক অর্থনীতিতে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, Asian Development Bank ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা, যার সদস্যসংখ্যা বর্তমানে ৬৯টি। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন, মানসম্মত অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এডিবির ভূমিকা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version