Wednesday, September 23

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক চুক্তি সই করতে যাচ্ছে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তি প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে গত বছরের আগস্ট মাসে দুই দেশের মধ্যে নীতিগত সমঝোতা হলেও তখন চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। দীর্ঘ আলোচনার পর এবার সেই সমঝোতাই আনুষ্ঠানিক রূপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসিতে।

চুক্তি স্বাক্ষরের অংশ হিসেবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ছাড়ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। সফরের প্রথম ধাপে তাঁরা জাপান যাবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট—বিজেইপিএ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বাণিজ্যসচিব যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা দেশে ফিরে আসবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন রোববার রাতে বলেন, টোকিও সফর শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে আসবেন এবং ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সইয়ের দায়িত্ব বাণিজ্যসচিবই পালন করবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে। চুক্তির খসড়া ও নির্ধারিত তারিখে সই করার অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।

পাল্টা শুল্কের হার কমার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে ২০ শতাংশ শুল্কহার কার্যকর রয়েছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই হার সমান, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে আরও বেশি। আলোচনার মাধ্যমে শুল্কহার কিছুটা কমার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৯ ফেব্রুয়ারির আগে নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি প্রসঙ্গে গত ২২ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, চুক্তিটি কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রবেশাধিকার পাবে। একই সঙ্গে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভ করবে।

এ প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাম্প্রতিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে ভারত বস্ত্র খাতে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে এবং বৈশ্বিক বাজারে তাদের উপস্থিতি রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পখাতে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁচামাল ভারত থেকেই আমদানি করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version