Wednesday, September 23

দেশে প্রত্যাশিত হারে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) না আসার পেছনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ধীরগতির কার্যক্রম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন Mirza Fakhrul Islam Alamgir তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেই এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে Institute of Strategy and Tactics Research (আইএসটিআর)। এতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দেশীয়-বিদেশি ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

সংলাপে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবা প্রদানের গতি অনেক ক্ষেত্রে ধীর। ফলে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে দ্রুত সমস্যার সমাধান আশা করেন, বাস্তবে তা পান না। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে এবং বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়। “এই ধীরগতি বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক বার্তা তৈরি করে এবং অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ হয়ে পড়েন,”—বলেন তিনি।

বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য এখনো অনেক কাঠামোগত ও প্রশাসনিক বাধা বিদ্যমান। তবে সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, নীতিগত সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষিখাতে নেওয়া উদ্যোগ—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ফসলভিত্তিক প্রণোদনা কর্মসূচি—সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন।

জ্বালানি খাতেও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ খাতে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রবাহ আরও গতিশীল হবে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা না গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।”

এছাড়া আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে Rohingya crisis এখনো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সংকটের টেকসই সমাধানে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রশাসনিক সংস্কার, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শর্ত।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version