Wednesday, September 23

যুক্তরাষ্ট্রের Washington, D.C.-তে দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল ফাইন্যান্স’ সম্মেলন শেষ হয়েছে। ১৭ ও ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবণতা, ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। আয়োজনটি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান In Search of Root Foundation।

আয়োজকদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে আস্থা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।

ডিজিটাল ফাইন্যান্স এখন বাস্তবতা

উদ্বোধনী অধিবেশনে আইএসওআরএফের প্রেসিডেন্ট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল ফাইন্যান্স এখন আর ভবিষ্যতের ধারণা নয়, বরং এটি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেশনটি পরিচালনা করেন Greater New York Chamber of Commerce-এর সিইও ও প্রেসিডেন্ট মার্ক জ্যাফে। তিনি বলেন, টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আস্থা, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ইনস্যুরেন্স, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের কমিশনার কারিমা এম উডস, ভার্জিনিয়া ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের পরিচালক সারা ব্রুকস এবং Yale University-এর জ্যাকসন স্কুল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ফেলো ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে থমাস জুনিয়রসহ বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

পাবলিক-প্রাইভেট সংলাপে গুরুত্ব

সম্মেলনের প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাবলিক-প্রাইভেট সংলাপ। এতে বক্তারা বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের রাইহান এলাহী দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে State University of New York-এর অর্থনীতির অধ্যাপক বিরূপাক্ষ পাল ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তৃত সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো

ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরে bKash-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কামাল কাদির বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি দ্রুত বাড়ছে, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক হারুন আর রশিদ সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে উদ্ভাবন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনা

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে রেগুলেটরি ও তদারকিবিষয়ক বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ এশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version