Wednesday, September 23

একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ শরিয়াহ্‌ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক—এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত প্রশাসকেরা দায়িত্ব ছেড়েছেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিজেদের মূল কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতা ও বিপুল খেলাপি ঋণের কারণে পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৬ জুলাই মো. আবেদুর রহমান সিকদার নতুন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নেয়।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শাইরুল হাসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ব্যবসায়িক পরিচালনায় না থাকলেও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কঠোর তদারকি চালিয়ে যাবে। দ্রুত চার-পাঁচজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঁচ ব্যাংকে মোট আমানত প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা এবং ঋণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত শাখা ৭৬০টি, উপশাখা ৬৯৮টি এবং এটিএম বুথ ৯৭৫টি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি একক ব্যাংকে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূতকরণ সফল করতে দ্রুত দক্ষ জনবল নিয়োগ, কঠোর তদারকি, খেলাপি ঋণ আদায় এবং আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখা জরুরি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version